শাশ্বত অগ্নিখণ্ড!

যে কবিতা আরো সহস্র স্লোগান হয়ে ভেঙে দেবে কাঁটাতার, ডানা মেলবে মুক্ত অন্তরীক্ষে। ১৪ নম্বর কুঠুরিতে বাড়তে থাকে নিস্তব্ধতা, যা একসময় ঠান্ডা হিমশীতল নিঃশ্বাস ফেলে শিহরিত করে অভিজ্ঞ উকিলবাবুকে। সম্বিৎ ফিরে পেয়ে কাতর কণ্ঠে তিনি জানতে চান, ‘দেশবাসীকে কিছু বলবে না ভগৎ?’ নির্লিপ্ত উত্তর আসে, ‘সবকিছু তো তাঁদেরই জন্য মেহেতা সাহেব। তাই আজ আর নতুন করে কিছুই বলার নেই। তবু যদি কিছু জানাতে হয় তো এটুকুই…’, বলে খানিক অপার নৈশব্দ। তারপর গমগমে কণ্ঠে শোনা যায় ‘ইনকিলাব’ ধ্বনি, যা দীর্ঘজীবন লাভ করে কৃষকের কাস্তেতে, শ্রমিকের হাতুড়িতে। সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যোগ করেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক!’ তিনি কী কখনো বুঝেছিলেন, শতাব্দী পেরিয়ে একদিন সেই সাম্রাজ্যবাদই প্রাণ কেড়ে নেবে সত্তর হাজার শিশুর। মুখগুলো একই থাকবে, সাথে কান্নাও; শুধু বদলে যাবে মানচিত্র আর ঘাতক। কখনো সমুদ্রতট থেকে মুছে যাবে গাজা, কখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে ভিয়েতনাম। তবু আমরা বেঁচে থাকবো এক সর্দারজির স্বপ্ন নিয়ে, তিলতিল করে বোনা এক হয়ে থাকার স্বপ্ন! আজ জন্মদিনে দু’চার লাইন আরও আনন্দ’র পাতায়…