ষোড়শ শতকের পরবর্তীতে ফ্রান্সে চালু হয় ‘পয়জ়ন দ্য এভরিল’, যার অর্থ এপ্রিল ফিশ

১লা এপ্রিল। মানুষকে বোকা বানানো ও তাতে নিরলস হাস্যরস উদযাপনের জন্য বরাদ্দ একটা গোটা দিন। কিন্তু আমাদের শৈশবের এই নির্ভেজাল আনন্দে মিউচুয়াল ফান্ডের বিজ্ঞাপনের মতোই কিছু অলিখিত শর্ত আরোপিত থাকত। প্রথমত, এই মজা যেন কাউকে আঘাত না দেয়। দ্বিতীয়ত, মজা করার পর সেই ব্যক্তির কাছে মার্জনা প্রার্থনা। তৃতীয়ত, মজার অজুহাতে কাউকে বিদ্রুপ বা ‘বুলি’ করা, নৈব নৈব চ! কিন্তু আজ গোটা দেশ তথা বিশ্বেই মজার সংজ্ঞা বদলে গিয়েছে। যে কোনও মজাই খুব দ্রুত মানুষের ‘ভাবাবেগে’ আঘাত হানে। এই ‘ভাবাবেগ’ এক বিষম বস্তু।কখনও যার খাঁড়া নেমে আসে মুনওয়ার ফারুকির উপর, রাত কাটাতে হয় শ্রীঘরে। কখনও বা মুম্বাইয়ের অন্যতম স্ট্যান্ড আপ ক্লাব, হ্যাবিট্যাট ক্যাফেতে চলে রাজনৈতিক হামলা। এ বার সামান্য হাস্যকৌতুক এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সমানুপাতিক হার মানদণ্ডে বিশ্লেষণ করে, নির্মল হাসির দিনে মুখ বেজার করার কোনও কারণ দেখি না। আমরা যেমন সংবাদপত্রে কৃষক আত্মহত্যা, বহুজাগতিক কোম্পানির কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো ‘সামান্য’ বিষয়গুলিকে দুঃখের ঝুলিতে পাঠিয়ে দিয়ে অনুসন্ধান চালাই কাঙ্খিত সুখের; কখনও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়, কখনও বা আইপিএলের আনন্দে মেতে প্রতিনিয়ত বোকা বানাই নিজেদের, তেমনই ক্রমশ বুড়িয়ে যাওয়া পৃথিবীতে বোকা বানানোর শুরু কী ভাবে, তা আজ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করব।by TaboolaSponsored Links
You May Like
Your Festive Upgrade Starts Here
Make your Diwali cinematic with Sony BRAVIA. Enjoy 3-year warranty, EMI-free options & festive cashback.
Sony BRAVIA
Live Update: The Strategy Uses By Successful Intraday Trader
Join Bala Sir’s Market Profile Masterclass and Book Your Profit By 11 AM, Sign Up Now For Trading Success.
TradeWise
Join new Free to Play WWII MMO War Thunder
Fight in over 2000 unique and authentic Vehicles. Fight on Land, on Water and in the Air. Join the most comprehensive vehicular combat game. Over 2000 tanks, ships and aircraft.
War Thunder
১৫৮২ সাল। ফ্রান্সে অবসান ঘটছে জুলিয়াস সিজ়ার প্রবর্তিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের। ফ্রান্স প্রথম গ্রেগরিয়ান বা মতান্তরে জর্জিয়ান তাঁর সময়কালের নতুন ক্যালেন্ডার নিয়ে আসেন। যাতে ১লা এপ্রিলের বদলে জানুয়ারিকে বছরের প্রথমদিন হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু তখন তো আর সোশ্যাল মিডিয়া নেই। স্বাভাবিক ভাবেই সারা দেশে খবর পৌঁছতে সময় লাগে বিস্তর। অনেকে তাই জুলিয়ান ক্যালেন্ডারকেই অনুসরণ করে চলতে থাকেন। স্বভাবতই জানুয়ারির পরিবর্তে অনেকেই পুরোনো রীতি মেনে মার্চের শেষ ও এপ্রিলের শুরুতে নতুন বছর উদযাপন করতে থাকে। বিষয়টি জর্জিয়ানের অনুগামীদের মনে বেশ হাস্যরসের উদ্রেক ঘটায়।তারা এই পুরোনো রীতি মেনে চলা ব্যক্তিদের নিয়ে আমোদ করতে থাকে। ইতিহাসের পাতায় আগামীতে এই আমোদ তথা খোরাকের রীতিই এপ্রিল ফুলের লেগ্যাসি বহন করে। যদিও তারা যে আদতে, ফ্রান্সের প্রাচীন উৎসব ‘ফিস্ট অফ ফুল’কেই নকল করছে, এমন অভিযোগও তোলেন নতুন ক্যালেন্ডারের বিরোধীরা। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ক্যালেন্ডারের রাজনীতি খুব একটা পুরোনো নয়। আগে বছর কখন শুরু হবে সেটা নিয়ে কৌতুক হতো, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তা নেতা ওরফে নেত্রীর ছবি ‘বদলাবদলি’ করিয়ে ক্ষান্ত হয় মাত্র। এক্ষেত্রে যদিও পুরাতন এবং নূতন একই দলের। আর অনুগামীরা আজও ‘বোকা’।যদিও ফ্রান্সে এই প্রথার বিবর্তন চলতে থাকে। ষোড়শ শতকের পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সে চালু হয় ‘পয়জ়ন দ্য এভরিল’ উৎসব। যার অর্থ এপ্রিল ফিশ। স্থানীয় ছেলেরা একে-অপরের পিছনে কাগজের তৈরি মাছ আটকে দিত, যাতে ‘কিক মি’ বা এই রকমই কিছু মজার কীর্তিকলাপ বিষয়ক প্ররোচনা দেওয়া থাকে। নিছক মজার এই উৎসব ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে একসময় ছড়িয়ে পড়ে ল্যাটিন উপমহাদেশেও। ব্রাজ়িলে প্ৰিয়জনকে বোকা বানানোর এই বিশেষ দিনটি ‘দিয়া দা মেন্ত্রিয়া’ বা লাই ডে হিসাবে উদযাপন করা হয়।অন্যদিকে, ব্রিটিশ লোককথা অন্য ইতিহাসের বার্তা বয়ে আনে। ত্রয়োদশ শতকে নটিংহ্যামশায়ারের ‘গথাম’ শহরকে নাকি বোকাদের শহর বলা হত। শোনা যায়, সে দেশের রাজা জন এক অদ্ভুত নিয়ম চালু করেন। তিনি যেখানে পা রাখবেন, তা নাকি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হয়ে যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজার রাজকোষ ও প্রজাদের মনে ভয়, উভয়ই সমান্তরাল গতিতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু গথামবাসীদের কাছে যখন এ সংবাদ পৌঁছয়, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা রাজাকে শহরে ঢুকতে দেবে না। বেগতিক দেখে রাজা সৈন্য পাঠালেন।