মোহন-বাঁশি

সদ্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে বেজেছে সিপাহী বিদ্রোহের দামামা। শহরের অলিতেগলিতে ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের ছোঁয়াচ। ব্রিটিশ পুলিশও ছেড়ে কথা বলছে না। নির্বিচারে চলছে ধরপাকড়। এই উত্তপ্ত আবহে পরাধীন ভারতের রাজধানী বর্তমান কলকাতার বুকে জন্ম নিল মোহনবাগান ক্লাব। অদ্ভুতভাবে দিনটা ১৫ অগাস্ট। প্রতিষ্ঠাতার তালিকায় অন্যতম নাম বিশিষ্ট আইনজীবী ও পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ভূপেন্দ্রনাথ বসুর। বসু পরিবার ছাড়াও নাম জুড়েছে মিত্র ও সেন পরিবারের। প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয় উত্তর শহরতলির ১৪ নম্বর, বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে। সেক্রেটারি যতীন্দ্রনাথ বসু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বহু স্বনামধন্য মানুষ। শোনা যায় ক্লাব তৈরিতে শ্যামপুকুরের মহারাজ দূর্গাচরণ লাহা ও কোচবিহারের মহারাজ রাজেন্দ্র বাহাদুরও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন।অধুনা মার্বেল প্যালেস ছিল শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের প্রথম প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। বিত্তশালী মিত্র পরিবারের সম্পত্তি, পরবর্তীতে মোহনবাগান ভিলা নামেও পরিচিত হয়। শোনা যায়, ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর মোহনবাগান তার প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ইডেন হিন্দু হস্টেলের বিরুদ্ধে। প্রথম এগারোয় গিরীন বসু, প্রমথনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো উল্লেখযোগ্য নাম। তবে সেখানেও মাঠ স্থায়ী ঠিকানা পায়নি। ১৮৯১ সাল নাগাদ আবার জায়গা বদল, এবার গন্তব্য শ্যামপুকুর মাঠ। লাহাবাবুর সহায়তায় ক্লাব স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে জায়গাটির নাম লাহা কলোনি। পরবর্তীতে, কলকাতা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হ্যারি লী স্থায়ী নিবাসের বিষয়ে উদ্যোগী হন। আরিয়ান্স ও বাগবাজার ক্লাবের সঙ্গে যৌথভাবে শ্যাম স্কোয়ারে যাত্রা শুরু করে মোহনবাগান ক্লাব।