আরেকটু পর মণ্ডপগুলো খালি

আরেকটু পর মণ্ডপগুলো খালি। কিছু আবার কাল, পরশু-তরশুর অপেক্ষায়। তারপর? উইকেন্ডের বাড়তি পাওনা ভুলে আবার জীবনের হিসেব কষা। মাইক খোলার প্রস্তুতি, ম্যারাপ-ত্রিপল ডাই করে রাখা একধারে। এই পাঁচটা দিনই জীবন, বাকি সময়টুকু অপেক্ষা। অপেক্ষা ভালো থাকার। কিংবা শঙ্কার প্রহর। এই পুজোর সব চেনামুখগুলোর যোগফল পরের পুজোয় মিলবে তো! তাই তো মায়ের সিঁদুরে মাখা লাল গাল সত্যি, মিষ্টিমুখে অসুর বিদায় সত্যি, গগন ঠাকুর সত্যি, চোখের জলে প্রার্থনা সত্যি! কোথাও একবার পড়েছিলাম, উত্তাল সমুদ্রে কেউ নাস্তিক হয় না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বক্তা, নিরঞ্জনের প্রতিমার সামনে বাঙালিকে দেখেননি। বাঙালির সবচেয়ে বড়ো ক্রাউড-পুলার এখনো তিনি। অকালবোধনে যাকে ঘিরে কাঁদা যায়, নিজের মেয়ের মত ভালোবাসা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গোনা যায়। মায়ে-ঝিয়ে মিলে, শ্মশানে-মশানে ঘোরা জামাইয়ের সাথে বাড়ি মাথায় করা যায়। তারপর কান্না থামলে মোয়া, নাড়ু, নিমকি। বয়স বাড়লে টান অদ্ভুতভাবে বাড়ে। মনে পড়ে যায় পুরোনো বাড়ির সিঁড়ির তলায় বিজয়া শেষে জুতোর ভিড়। ঠাম্মির সাথে দেখা করতে কত মানুষের সমাগম। লক্ষ্মীপুজোর নিমন্ত্রণ, ধূপধুনোর গন্ধ। সন্ধ্যা নামলে হেমন্তের হাওয়ায় শিউলি কিংবা ছাতিমের ঘ্রাণ। পাশের নিমগাছে পেঁচার কোলাহল, লাল মেঝেতে আল্পনার টান। ঈশ্বর প্রতিমায় নেই, মন্দিরেও নেই… আষ্টেপৃষ্টে সব আঁকড়ে বেঁচে থাকায় আছে।