ওই মনকাড়া সুরটা..

ওই মনকাড়া সুরটা আর ওই ঢাউস রেডিও। চিলেকোঠার ঘর। কত শত প্রথম শোনা বাংলা গান। জমে থাকা ক্যাসেডের ভিড়। পড়ে আছে বহুদিন। মহালয়া ছাড়া বেরোয় না বিশেষ। ধুলো জমে অস্পষ্ট ফিলিপ্স লেখাটাও। পুবদিকের না-খোলা জানলাটায় স্থান পেয়েছে ছেঁড়া মাদুর আর পুরোনো ম্যাগাজিনের ভিড়ে। ধুলো ঝাড়লেই মাধ্যমিক, মনে না পড়া উপপাদ্য, আর নিঝুম দুপুরে গুনগুন করা সুর। সেই প্রথম আলাপ তাঁর সাথে। গুলজারের লিরিক্স আক্ষরিক অর্থেই ‘মাচিজ’। তবু ওসব বুঝতে ব্যর্থ কিশোর মন। শুধু টানছে শিস দেওয়া সেই অদ্ভুত সঙ্গত। ওই চৌকাঠের নিষেধ পেরোনো ছাদের ঘর আর প্রথম ঠোঁটের স্পর্শে আমরা কেকে-কে পেয়েছি। জড়িয়ে থেকেছি আষ্টেপৃষ্টে। তখন ডানা গজিয়েছে সদ্য। বিকেল হলেই হারকিউলিসের বাংলা সাইকেল নিয়ে টো টো এপাড়া-বেপাড়া-সেপাড়ায়। তারপর মাঠ পেরিয়ে বুড়ো বটতলার পাম্পকলের জলে পা ধোয়ার অপেক্ষা। পাশে মন্টুদার সেলুন থেকে ভেসে আসা মন উচাটন সুর। ওই মাধুর্য আর নিদারুণ বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করা গায়কী। মেহবুব জাস্ট ছিনিমিনি খেলছেন ইমোশন নিয়ে। ইসমাইল দরবার ছিলেন বিরহে, কেকে ছিলেন মননে। যখন তখন প্রেমে হোঁচট, মনে গুনগুন – ‘গম কে খাজানে মিলতে হ্যায় ফির, মিলতি হ্যায় তানহাইয়া!’ তারপর আরো কিছুটা বয়স বাড়লো। পাড়ার আরো কিছু মাঠ বদলে গেল হাউজিং কমপ্লেক্সে।