একই ছবি ব্যাঙ্গালোরে

গভীর রাতের আমেদাবাদ। স্তব্ধ, নির্বাক। কিংবা প্রবল উচ্ছাসে বাক্যহীন। একই ছবি ব্যাঙ্গালোরে। নেপালে, মুম্বাইতে, কলকাতায়। আচ্ছা ক্রমাগত ব্যর্থতায় কী মানুষ হারকে রোমান্টিসাইজ করে? নাকি পরাজিত নায়কেরাই আদতে রক্তমাংসের চরিত্র হয়ে ওঠে? শোনা যায় মরিয়ার্টির হাতে শার্লকের মৃত্যু নাকি পাঠকমহলে তাঁর মোহ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিংবা ইডিপাস। কিংবা ইন্দ্রজিৎ। কিংবা অনিমেষ। ব্যর্থ বিপ্লবের সাক্ষী এক যুবক যখন আস্তেধীরে মাধবীলতাকে আঁকড়ে নতুন করে বাঁচতে শুরু করে, তখন কী আমরা তাঁর মধ্যে নিজেকে দেখতে পাই? উপন্যাসের শেষ পাতায় একরত্তি শিশু যখন বাবাকে পুলিশি অত্যাচারে পা ভাঙার কারণ শুধায়, তখন কী সেই সরল প্রশ্ন আমাদেরও বুকে ঝড় তোলে না? আমরা ওই ‘কেন’-র উত্তর নীরবতা দিয়ে ঢাকি। আমরা সমস্ত ব্যর্থতাগুলো জমিয়ে রাখি কোনো দূরের গল্পে, আগলে নিই সামনে রাখা মাটির তালটা। যেমনটা নিয়েছিল অনিমেষ। আসলে আমরা প্রত্যেকে ব্যর্থ। বেধড়ক মার খেতে খেতে আমরা সুমনের গানে একটিবার জেতার স্বপ্নকে আগলে রাখি। যে স্বপ্ন কখনো সত্যি হয় না। মজবুত হয় না সমাজতন্ত্রের ভিত। সবাই বিশ্বাসঘাতক। বস্তারের জঙ্গলে পড়ে থাকে কিছু রক্তাক্ত মাংসপিন্ড। রাষ্ট্র শ্রেণীশত্রু চিহ্নিত করে। গভীর রাতে চলে কাটাছেঁড়ার ‘অপারেশন’। আদতে এই গৃহযুদ্ধে জয়ীর মুকুট ও সিংহাসন ফাঁকাই থাকে। ব্যর্থ মানুষের ভিড়ে জন্ম নেয় একটুকরো মানচিত্র। যে মানচিত্র ঘিরে গড়ে ওঠে স্বপ্ন। বাঁচার স্বপ্ন। কত কান্না জমে থাকে। কত কান্না কাঁদা বাকি।