রাষ্ট্র মেরামতের ডার্বি

সকাল থেকেই বৃষ্টি। ঝাপসা চারপাশ। তবু ভিড় জমছে রাস্তায়। যেমনটা জমছিল বিগত কয়েকদিন। ওরা আগলে রেখেছে জনপথ। যে জনপথ শুধু সার্ভিস রোড নয়, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস পেরিয়ে মিশে গেছে কোন সুদূরে। দেখা যাচ্ছে না শেষটুকু। দিগন্তে শুধু স্পষ্ট হচ্ছে কিছু জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো। পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে কিছু কালো মাথা। হাজারও রিফিউজি কলোনীর অলিগলিতে আজ নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। মশালের আলোয় নদীর চর আলোকিত করে যাত্রা শুরু করেছে পালতোলা নৌকা। জানি না কোন ঘাটে গিয়ে ঠেকবে। বিপদসংকুল পথ। বাড়ছে ঢেউ ক্রমাগত। তীব্র হচ্ছে বারিদ গর্জন। শ্বাদন্ত বার করে এগিয়ে আসছে একচোখো জলদস্যুর দল। ঠোঁটের কোণে এক নির্মম ক্রুর হাসি। রাতের অন্ধকারে শান দিয়ে নিচ্ছে শাণিত ছুরির ফলায়। যেমনটা ওরা সেই রাতে ছিঁড়ে খেয়েছিল মেয়েটাকে। নরম শরীরটা পরিণত হয়েছিল একটুকরো মাংসপিন্ডে। তারপরেও থামেনি হায়নার দল। কাটাছেঁড়া করা ছিন্নভিন্ন ফুলের পাঁপড়িগুলো শেষ মুহূর্তেও পায়নি মায়ের স্পর্শ। রাষ্ট্রীয় লেঠেল বাহিনী শুকিয়ে যাওয়া এক টুকরো গোলাপকে ‘যত্ন’ করে কবর দিয়েছে। চোখের জলে মুছে গেছে চাপ চাপ রক্ত। তবুও এ শহরে ভালোবাসা এখনো গোলাপে ফোটে। যেমন ফুটলো হাজারও কুঁড়ি। রাত জাগলো তারা। শহর পেরিয়ে দেশ। দেশ পেরিয়ে মহাদেশে। ভয় পেল রাষ্ট্র। জল মাপলো আড়চোখে। জমাট বেঁধেছে কিছু রং। দুদিন আগেও যারা ময়দানি দলবদল নিয়ে একে অপরের কলার ধরছিল, কী করে যেন তারা হঠাৎ এক হয়ে গেল। মিশে গেল রাতের ভিড়ে, যে ভিড় রাষ্ট্র মেরামতের দায়িত্ব নেয়। হয়ত এমনই হয়। যে কথায় শিরায় শিরায় বিষ ছিল, তাতেই হঠাৎ কবিতা জন্মাচ্ছে। লেখা হচ্ছে দেয়াল। মুছে যাচ্ছে সরকারি নীল-সাদা রং। গাঢ় হচ্ছে লাল-হলুদ, সবুজ-মেরুন কিংবা কালো-সাদা। ……….