swastikchowdhury.com

সব্যসাচীরা পথ খুঁজে পায় না, সনৎরা থেকে যায় !

‘সুরায় সুরাহা খুঁজে নেয় উইঙ্কেল। তারপর ২০টা বসন্ত কাটে। আমেরিকান বিপ্লব হয়ে যায়, আর ঘুম ভাঙে না তার। একদিন সে উঠে দেখে বদলে গেছে চারপাশ। যেমন বন্ধু ধার চাইলে হঠাৎ বদলে যাই আমরা। বদলে যাই উর্দু নামধারী সহকর্মী সস্নেহে খাবার এগিয়ে দিলে। বদলে যাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরুদ্ধমত পছন্দ নাহলে। তেমনই বদলে গেল কত দিনবদলের স্বপ্ন। আমরা ভেবেছিলাম, স্লোগানের সোনালি ডানায় ভর করে সমাজতন্ত্র আসবে। নিঝুম চিল ডাকা দুপুরের চুমুতে উজাড় করে দিয়েছিলাম সোহাগের রসদ। সন্ধ্যায় একান্নবর্তী বয়োজ্যেষ্ঠদের মায়াস্পর্শে বুঝিনি বোকাবাক্সের সামনের ভিড়টা ধীরে ধীরে একদিন পাতলা হবে। অ্যান্টেনা ঘুরিয়েও আর সন্ধান পাওয়া যাবে না মানুষগুলোর। তারপর আমাদের গেছে যেদিন, একেবারেই কী গেছে? কিছুই কি নেই বাকি? ইঁট-কাঠ-সিমেন্টের ফাঁকা টুবিএইচকে কঙ্কাল থেকে তীব্র প্রতিধ্বনি ছিটকে এসে একাকিত্ব নিশ্চিত করে। আমরা একলাফে বড়ো কিংবা বুড়ো হয়ে যাই। ফেলে রেখে সুমনের গান, পুরোনো টেস্টপেপার আর মায়ের শাড়ির হলুদমাখা স্নেহময়ী সুবাস। আমরা প্রত্যক্ষ করি বদলে যাওয়া সময়। প্ৰিয় উৎসবেও জারি ফতোয়া। কোথাকার কোন চার-কুড়ি বাবা আমাদের কলার ধরে শিখিয়ে দিয়ে যায় দুর্গাপুজোর রীতি রেওয়াজ। বাংলায় একটি অক্ষরও উচ্চারণ করতে অক্ষম সেই কপট পিতৃদেবের সামনে নতমস্তক হতে শিখে যায় বঙ্গসন্তানকূল। ভ্রম লাগে এই নিরীহ নির্জীব জাতিকে দেখে। রাত বাড়লে চেহারাটা স্পষ্ট হয়। আলোআঁধারি সড়কে কোনো নিস্তরঙ্গ দীঘির জল কিংবা ঘষা খাওয়া সারশিতে ফুটে ওঠে একটা অবয়ব। চেনা লাগে ভীষণ। খানিক নতজানু, পর্যুদস্ত আর পরাভূত। কিঞ্চিৎ নিজের মত। খানিক সব্যসাচী সেনের মত।’ উইঙ্কেল টুইঙ্কেল প্রসঙ্গে একটি লেখা রইল আরও আনন্দ অ্যাপে…
Scroll to Top