swastikchowdhury.com

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

‘মিসাইলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে ধুলো মাখা শিশু ১০ নম্বর জার্সি গায়ে বেরিয়ে আসে অপরূপ সুন্দর পৃথিবীতে, মৃতদেহ হয়ে। তবু এই নৃশংস নির্মম পৃথিবী পরদিন দিব্যি স্বাভাবিক থাকে। ফুল ফোটে নতুন লাগানো গোলাপ গাছটায়। মানুষ গান গায়, সুর বাজে হেডফোনে। হাসিমুখে প্রেমিক চুমু এঁকে দেয় প্রেমিকার কোমল ঠোঁটে। গাছ বাঁচাতে মানুষ জানকবুল লড়াই করে। আর তিনি আবারও খেলতে নামেন নীল সাদা গায়ে। শেষবারের মত। কত শত রোদ্দুরে আমরা একসাথে স্নান করেছি। কত ভালো থাকা দু’বাহু বাড়িয়ে একসাথে যাপন করেছি, কত কান্না কেঁদেছি একসাথে। মৃত উপত্যকায় চারা গাছ পুঁতেছি। তুমি দিয়েছো অফুরান। দিয়েগোর শাশ্বত অক্ষয় মূর্তির পাশে এঁকেছো নিজের ছায়া। ৩৬টা বছরের খরা ঘুচিয়ে এনেছো সুখের বৃষ্টিস্নান। দিয়েছো অনেক। যে প্রাচুর্যের ভিড়ে না পাওয়াগুলো ক্ষণিক ম্লান মনে হয়। তবু কেন লামিনের হাত ধরে তোমার উঠে দাঁড়ানো দেখে চোখ জ্বালা করছে আমাদের? কেন নিজ সমর্থকদের কাছে প্রত্যহ ট্রোল হওয়া ফেরান টোরেসের নির্মল হাসিমুখও মলম জোগাচ্ছে না কালসিটের নীলে? তোমার পরাজয়ের গ্লানি আর বিন্দুমাত্র কষ্ট দিচ্ছে না আমাদের। তবু গলার কাছটা দলা পাকাচ্ছে জানো। তুমি কী সত্যিই চলে যাচ্ছ লিও? আমাদের হাতে কি সত্যিই আর সময় নেই?’ এবারের বিশ্বকাপের শেষ লেখা ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়…
Scroll to Top