swastikchowdhury.com

রক্তক্ষয়ী সামরিক একনায়কতন্ত্রের ক্রূর পাশবিক দলিল

একদিকে দেশজুড়ে চলছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সামরিক শাসনের দমন-পীড়নে অত্যাচারিত যুবক-যুবতী হাতে তুলে নিচ্ছে অস্ত্র। চলছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। মার্ক্সবাদী সংগঠন ইআরপি ও অতিবাম গেরিলা সংগঠন পেরোনিস্ট মন্তোনেরোস আশ্রয় দিচ্ছে বহু মানুষকে। আকাশে বাতাসে ভাসছে বারুদের গন্ধ। নিরীহ সাধারণ মানুষগুলো অকালে রাষ্ট্র নামক খুনীর হাতে নিহত। কে নেই সেই দলে! কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, মানবাধিকারকর্মী, গির্জার ধর্মযাজক, সমাজকর্মী, শিল্পী সমাজ। খাঁড়ার ঘা থেকে রেহাই পায়নি কেউই। ১৯৩৮ সালে মুসোলিনি ইতালিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেন। সেটির পাশাপাশি একমাত্র কলঙ্কিত আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপকেই ইতিহাসের একই পরিচ্ছেদে ফেলা যায়। আর্জেন্টিনার সামরিক শক্তি জান্তা জানতো, বিশ্বকাপ তাদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি সুচারু সুযোগ মাত্র। বিদেলা সরকার বিশ্বকাপ আয়োজনে বিপুল অর্থ খরচ করে। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আশেপাশের সমস্ত বস্তি ভেঙে দেওয়া হয় বুলডোজার দিয়ে। কয়েক লক্ষ বাসিন্দাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে মুছে ফেলা হয় দারিদ্রের যাবতীয় নিশান। দারিদ্র মুছে ফেলার প্রথম পদক্ষেপে বিলুপ্তি হয় গরীবদের, মহাবিশ্বের আদিম অনন্ত সময়কাল থেকে ইহাই ফ্যাসিস্ট রীতি! ১৯৭৮ বিশ্বকাপের রক্তাক্ত এক অধ্যায় নিয়ে দু’চারলাইন ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়…
Scroll to Top